অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু প্রবৃদ্ধির নতুন গতি সৃষ্টির দিকনির্দেশনা এখনো স্পষ্ট নয়

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরকে মূল্যায়ন করতে গেলে আমাদের প্রথমেই দেখতে হবে—এটি শুরু হয়েছিল এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে।

মামুন রশীদ, প্রথিতযশা ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। প্রায় ৪০ বছর কাজ করেছেন তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকে, বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোয়। বর্তমানে আর্থিক খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তিতে—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে তা নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হলো—সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপনি এ সময়কে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরকে মূল্যায়ন করতে গেলে আমাদের প্রথমেই দেখতে হবে—এটি শুরু হয়েছিল এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। বিশ্ব অর্থনীতিও তখন একাধিক ধাক্কা সামলাচ্ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি। বাংলাদেশ তখন উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো সমস্যায় জর্জরিত।

গত এক বছরে সরকার কিছু স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে—বিশেষ করে মুদ্রানীতি কিছুটা সংযত রাখা, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ এবং কিছু খাতভিত্তিক প্রণোদনা। তবে বাস্তবতা হলো, এ পদক্ষেপগুলো এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি, বরং নিত্যপণ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।

আমার দৃষ্টিতে এই এক বছর ছিল মূলত ক্ষত সারানোর সময়, উন্নয়নের নতুন গতি সৃষ্টির সময় নয়। সরকারের কিছু সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি রোগের—যেমন উৎপাদনশীল বিনিয়োগের ঘাটতি, দুর্বল কর কাঠামো ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের প্রতি এখনো সমাধানমূলক কৌশল স্পষ্ট হয়নি। ফলে এ সময়কে আমি বলব ‘‌সতর্ক অগ্রযাত্রার’ বছর—যেখানে সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু প্রবৃদ্ধির নতুন গতি সৃষ্টির দিকনির্দেশনা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস—বাস্তবে কতটা সফল হয়েছে বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে শুধু একটি পরিসংখ্যানগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি মানুষের জীবনমানের সরাসরি শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার সময় সাধারণ মানুষের প্রথম প্রত্যাশা ছিল—পেঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদি নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমবে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখেছি, বাজারে কিছুদিন দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যে আবারো তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে পড়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বল প্রয়োগ ব্যবস্থা—যেখানে সিন্ডিকেট ভাঙা বা কালোবাজার দমন কার্যত প্রতীকী পর্যায়ে রয়ে গেছে।

যদিও সরকার কিছু খাতে আমদানি শুল্ক কমানো, টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিতরণ এবং কৃষি উৎপাদনে প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা করেছে, তবু উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমার মতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সফল হতে হলে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, কৃষি-সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পাইকারি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল, যা এই এক বছরে খুব সীমিতভাবে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও ডলার বাজারের অস্থিরতা কমাতে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা কী টেকসই সমাধানের দিকে এগোচ্ছে?

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবেলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে—আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার ধাপে ধাপে সমন্বয়। এ পদক্ষেপগুলো স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

আমাদের রিজার্ভ বাড়ানোর আসল উপায় হলো—রফতানি বহুমুখীকরণ এবং প্রবাসী আয় চ্যানেলগুলোকে আরো স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করা। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রফতানির পরিমাণ খুবই সীমিত, ফলে বৈশ্বিক মন্দা বা অর্ডার হ্রাস পেলেই রিজার্ভে ধাক্কা লাগে। রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাংক ও হুন্ডির প্রতিযোগিতা এখনো বিদ্যমান, যা অবৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণকে উৎসাহিত করছে।

টেকসই সমাধানের জন্য আমাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রযুক্তিনির্ভর রফতানি, আইটি খাতের বৈদেশিক আয় এবং কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত রফতানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট কাটিয়ে প্রবাসীদের জন্য তাৎক্ষণিক, কম খরচের এবং নিরাপদ অর্থ প্রেরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান পদক্ষেপগুলো একটি ‘‌ব্যান্ডেজ’ মাত্র—স্থায়ী চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি।

তৈরি পোশাক, রেমিট্যান্স ও কৃষি—বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাতে গত এক বছরে কী ধরনের অগ্রগতি বা পশ্চাৎগতি লক্ষ করেছেন?

তৈরি পোশাক খাত এখনো আমাদের বৈদেশিক আয়ের মূল স্তম্ভ, তবে গত এক বছরে এ খাতে অর্ডার হ্রাস, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপ এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে চাহিদা কিছুটা কমে গেছে, আর শ্রম মজুরি বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়েছে, যা মূল্য প্রতিযোগিতায় আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

রেমিট্যান্সে এক বছরে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। প্রণোদনার হার বাড়ানো সত্ত্বেও প্রবাসীরা এখনো হুন্ডি চ্যানেলকে পছন্দ করছে, কারণ বিনিময় হার বৈষম্য পুরোপুরি কমেনি। ইতিবাচক দিক হলো—মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে পারে।

কৃষি খাতে কিছুটা মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে। একদিকে বাম্পার ধান উৎপাদন হয়েছে, অন্যদিকে পেঁয়াজ, আলু, ডাল ইত্যাদির বাজারে অস্থিরতা ছিল। কৃষি উৎপাদনের পর সংরক্ষণ ও বিপণন অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অথচ ভোক্তারা উচ্চ দামে কিনছে—এটি সরবরাহ ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে।

আন্তর্জাতিক ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তা পেতে সরকারের যে কূটনৈতিক ও নীতিসংক্রান্ত উদ্যোগগুলো ছিল, তা কি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে?

এক বছরে সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে নীতি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি করেছে। বিশেষ করে আইএমএফের ঋণ সহায়তার শর্ত পূরণে আর্থিক খাত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আস্থার ক্ষেত্রে ইতিবাচক। ফলে কিছু বিদেশী বিনিয়োগকারীর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে।

তবে বাস্তব বিনিয়োগ প্রবাহ এখনো ধীর। কারণ নীতি ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীরা বেশি গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশে এখনো ভূমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ব্যবসা শুরুর অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে বিলম্ব করছে।

আমার মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা তখনই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, যখন সরকার নীতি ঘোষণার পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখাবে। এর মধ্যে রয়েছে—আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতি।

রাজস্ব ঘাটতি, কর আদায় ও বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

রাজস্ব ঘাটতি বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং গত এক বছরে এর উন্নতি খুব সীমিত। কর আদায়ের ক্ষেত্রেও রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও করজালের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় এগোয়নি।

বাজেট বাস্তবায়নে আমরা এখনো ‘‌অবকাঠামো-নির্ভর’ প্রবণতা দেখি, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ বেশি হলেও তা সময়মতো ও মানসম্পন্নভাবে শেষ হয় না। এতে বরাদ্দের অর্থ কার্যকরভাবে অর্থনীতিতে প্রবাহিত হয় না, ফলে প্রবৃদ্ধিতে প্রত্যাশিত প্রভাব পড়ে না।

আমরা যদি রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারি, তবে ঋণনির্ভর বাজেট তৈরি ছাড়া উপায় থাকবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। আমার মতে, কর কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনা, ভ্যাট-কর প্রক্রিয়াকে ব্যবসাবান্ধব করা এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার বিস্তৃতি কর আদায় বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি।

বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করেন?

সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—বিশেষত তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, আইটি খাতে ফ্রিল্যান্সিং সুযোগ বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণ। তবে বাস্তবায়নের গতি ধীর হওয়ায় এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রতি বছর প্রায় ২০-২২ লাখ নতুন কর্মপ্রার্থী যুক্ত হয়। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে চাকরির সুযোগ অর্ধেকেরও কম। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করে, কিন্তু সেখানেও প্রতিযোগিতা ও দক্ষতার ঘাটতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভোকেশনাল এডুকেশন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। শুধু অবকাঠামো বা শিল্প স্থাপনের ঘোষণা দিলেই হবে না, বরং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

আগামী এক বছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের কোন তিনটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

আমার মতে আগামী এক বছরে সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—

প্রথমত, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর জন্য কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সিন্ডিকেট ও কালোবাজার নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী বাজার তদারকি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলায় স্বচ্ছতা অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, রফতানি বহুমুখীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে আইটি, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় আনতে ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার ও সহজ লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

তৃতীয়ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং করনীতির সংস্কার বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর মূল শর্ত।

এই তিনটি ক্ষেত্রেই যদি দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়, তবে আগামী এক বছরে অর্থনীতি শুধু স্থিতিশীলতাই পাবে না, বরং প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তিও তৈরি হবে।

আরও